ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের টগবগে তরুণ মুসলিম তাবরেজ আনসারী। একদিন সকালে নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী তার পথরোধ করে পরিচয় জানতে চায়। মুসলিম পরিচয় নিশ্চিত হবার পর শুরু হয় তার উপর অকল্পনীয় নির্যাতন। একপর্যায়ে তাকে জয়শ্রীরাম স্লোগান দিতে বাধ্য করে সন্ত্রা/সীরা।
এর কিছুক্ষণ পর নির্যাতিত তাবরেজ আনসারীকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। চারদিন পর তীব্র যন্ত্রণা ও চিকিৎসার অভাবে মারা যায় তাবরেজ আনসারী।
তাবরেজ আনসারির মতো হাজারো ভারতীয় মুসলিমরা আজ একই কায়দায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জয়শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতের মুসলিমদের নির্যাতন করা হচ্ছে।
জয়শ্রীরাম স্লোগান নিয়ে মুসলিম নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে ভারতের অযোধ্যায় মুসলমানদের পবিত্র ইবাদাতের স্থান বাবরি মসজিদ এর জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ এর দাবি তুলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সংগঠন বিজেপি।
উগ্র বিজেপির সভাপতি লাল কৃষ্ণ আদভানি একটি পদযাত্রা করে। সেই পদযাত্রায় প্রথম জয়শ্রীরাম স্লোগান উচ্চারিত হয়।
উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা তাদের তথাকথিত দেবতা রামের প্রতি সম্মান জানাতে জয়শ্রীরাম স্লোগান দিলেও বাস্তবে এই স্লোগান তাদের রাজনৈতিক স্লোগান, মুসলিম নিধনের হাতিয়ার।
উগ্ৰ হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা ভারতে যতবার মুসলিমদের উপর হাম/লা হয়েছে ততবার তারা জয়শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রেও প্রকাশ্যে জয়শ্রীরাম দিয়ে মুসলিমদের হত্যার হুমকি দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। ২০২৪ সালে সাহসী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার সময় জয়শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
সম্প্রতি গাইবান্ধার তথাকথিত রাম মূর্তি নির্মাণে মুসলিম জনতা বাধা দেয়ায় তাদেরকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিল উগ্র হিন্দু/ত্ববাদীরা। সেসময় তারাও জয়শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছিল।
অর্থাৎ, ভারতের মতো বাংলাদেশেও জয়শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে মুসলিমদের হত্যা করতে চায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। এভাবে পুরো উপমহাদেশকে মুসলিম শুন্য করে তারা রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
জয়শ্রীরাম স্লোগানধারী উগ্র হিন্দুত্ববাদী আরএসএসের হাত থেকে উপমহাদেশের মুসলমানদের রক্ষা করতে আমাদের এখনি জেগে উঠতে হবে। অন্যথায় আমাদের বাগদাদ, স্পেনের মুসলিমদের মতো রক্তাক্ত ইতিহাসের বাস্তব স্মাক্ষী হতে হবে।