Saturday, 31 October 2026

Newsletter

বাংলাদেশ থেকে মুসলিম বিশ্বের নতুন অর্থনৈতিক সেতু? SEACO উদ্যোগের ভেতরের বড় সম্ভাবনা আসলে কি?

বাংলাদেশ থেকে মুসলিম বিশ্বের নতুন অর্থনৈতিক সেতু? SEACO উদ্যোগের ভেতরের বড় সম্ভাবনা আসলে কি?

মানচিত্রে বাংলাদেশকে সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু মানচিত্রটি একটু বড় করে দেখলে ভিন্ন একটি বাস্তবতা সামনে আসে।

পশ্চিম ও উত্তরে ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্বদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আর সামনে বঙ্গোপসাগর। সমুদ্রপথ ধরে আরও দক্ষিণে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া; পশ্চিম-দক্ষিণে ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ।

অর্থাৎ বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ার প্রান্তে নয়; দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক দরজাও। এই ভৌগোলিক অবস্থানকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার একটি ধারণা বাংলাদেশ থেকেই উঠেছিল তিন দশকেরও বেশি আগে। এর নাম SEACO—South East Asian Cooperation।

বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই ও মালদ্বীপকে নিয়ে একটি উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামো তৈরির প্রস্তাব এটি।

শুনতে এটি আর দশটি আঞ্চলিক জোটের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু SEACO-কে শুধু পাঁচ দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখলে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি আড়ালেই থেকে যায়।

কারণ এর ভেতরে আরও বড় একটি প্রশ্ন রয়েছে—মুসলিম দেশগুলো কি নিজেদের বিচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে একত্র করে একটি কার্যকর উৎপাদন, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থায় রূপ দিতে পারে?

তিন দশক আগে যে প্রশ্নটি উঠেছিল…

SEACO-র ধারণা সামনে আসে ১৯৯২ সালে। ইন্দোনেশিয়ার বান্দুংয়ে OIC সদস্যদেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশের বেসরকারি খাত থেকে এই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

পরবর্তী সময়ে Islamic Chamber of Commerce and Industry এবং OIC-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফোরামেও বিষয়টি আলোচিত হয়। এর পেছনের যুক্তি ছিল বেশ সরল।

উপসাগরীয় মুসলিম দেশগুলোর GCC রয়েছে। মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় রয়েছে ECO। কিন্তু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে একই ধরনের আলাদা অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামো নেই।

SEACO সেই শূন্যস্থান পূরণের কথাই বলেছিল। প্রস্তাবিত পাঁচ দেশ হলো বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই ও মালদ্বীপ।

বাংলাদেশের রয়েছে বড় শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বড় বাজারের কাছাকাছি অবস্থান। মালয়েশিয়ার রয়েছে প্রযুক্তি, উন্নত শিল্প, ইসলামিক ফাইন্যান্স, হালাল সার্টিফিকেশন এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় অভিজ্ঞতা।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ; বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রাকৃতিক সম্পদ ও উৎপাদন সক্ষমতা তার বড় শক্তি। ব্রুনেইয়ের রয়েছে পুঁজি ও জ্বালানি সম্পদ। আর মালদ্বীপের রয়েছে ভারত মহাসাগরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং শক্তিশালী পর্যটন অর্থনীতি।

অর্থাৎ একটি দেশের যে শক্তি নেই, অন্যটির কাছে তার অনেকটাই রয়েছে। এই পরিপূরকতাই SEACO-র বড় সম্ভাবনা।

বিষয়টি শুধু বাণিজ্যের নয়, অর্থনৈতিক বিন্যাসেরও

ধরা যাক, বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় আরও পোশাক রপ্তানি করল। কিংবা ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও পাম অয়েল আমদানি করল। এতে বাণিজ্য বাড়বে। কিন্তু SEACO-র প্রকৃত সম্ভাবনা এখানেই শেষ নয়। বড় প্রশ্ন হলো, এই দেশগুলো কি একে অন্যের জন্য শুধু ক্রেতা ও বিক্রেতা হয়েই থাকবে, নাকি একসঙ্গে উৎপাদনের অংশীদারও হবে? এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি দেশ যদি শুধু অন্য দেশের পণ্য কেনে, তাহলে তারা ব্যবসায়িক অংশীদার। কিন্তু একটি দেশের পুঁজি, অন্য দেশের প্রযুক্তি, তৃতীয় দেশের শ্রমশক্তি এবং চতুর্থ দেশের বাজার যদি একই উৎপাদনব্যবস্থায় যুক্ত হয়, তখন তৈরি হয় অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা। আজকের বিশ্ব অর্থনীতির বড় শক্তিগুলোর অনেকটাই এভাবে গড়ে উঠেছে।

একটি মুসলিম supply chain কেমন হতে পারে?


ধরা যাক, মালয়েশিয়ার একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করল। প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি এলো মালয়েশিয়া থেকে। উৎপাদন হলো বাংলাদেশে। কিছু কাঁচামাল এলো ইন্দোনেশিয়া থেকে। ব্রুনেই থেকে এলো বিনিয়োগ বা জ্বালানি অর্থায়ন। পরে সেই পণ্য বিক্রি হলো মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাজার

তখন পাঁচটি দেশের সম্পর্ক আর শুধু আমদানি-রপ্তানির পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তারা একই value chain-এর অংশ হয়ে যাবে।

এর সঙ্গে যদি সরাসরি shipping route, দ্রুত customs clearance, পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত product standards, সহজ digital payment, business visa, investment protection, joint venture, warehouse ও cold-chain network যুক্ত হয়, তাহলে SEACO একটি সম্মেলনের নাম হয়ে থাকবে না।

এটি একটি বাস্তব আঞ্চলিক অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে। আর এখানেই মুসলিম বিশ্বের জন্য এর বড় শিক্ষা রয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের সমস্যা কি সত্যিই সম্পদের অভাব?

মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকে তাকালে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যায়। এক দেশে তেল আছে, আরেক দেশে গ্যাস। কোথাও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, কোথাও বড় শ্রমশক্তি। কোনো দেশে বিপুল পুঁজি, কোথাও বড় বাজার। কোথাও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, আবার কোনো মুসলিম দেশ প্রযুক্তি বা logistics-এ অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

অর্থাৎ সমস্যা সবসময় সম্পদের অভাব নয়। বড় সমস্যা হলো, এই শক্তিগুলো পরস্পরের সঙ্গে যথেষ্ট যুক্ত নয়। মুসলিম বিশ্বের বহু অর্থনীতি প্রয়োজনীয় খাদ্য, প্রযুক্তি, শিল্পপণ্য কিংবা বিনিয়োগের জন্য এমন সব দেশের ওপর নির্ভরশীল, যাদের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক বা কৌশলগত সম্পর্কও সবসময় স্থিতিশীল নয়।

অন্যদিকে একই প্রয়োজন পূরণের সক্ষমতা হয়তো অন্য কোনো মুসলিম দেশেই রয়েছে। কিন্তু supply chain নেই। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। সহজ বাণিজ্যপথ নেই। মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি নেই। কখনো কখনো সরাসরি shipping-ও নেই।

SEACO এই সমস্যার পূর্ণ সমাধান নয়। কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা সামনে আনে—আগে ছোট অঞ্চলে কার্যকর অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি করা, তারপর সেই নেটওয়ার্কগুলোকে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত করা।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ কোথায়?

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কৌশলের বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো—দেশটি কি শুধু কম খরচে পণ্য উৎপাদনকারী দেশ হিসেবেই থাকবে, নাকি একটি regional economic hub হওয়ার চেষ্টা করবে?

এই দুই অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। একটি উৎপাদনকারী দেশ মূলত পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু একটি hub-এর মধ্য দিয়ে পণ্য যায়, বিনিয়োগ যায়, তথ্য যায়, মানুষ যায়, জাহাজ যায়, ব্যবসা যায়। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিও তৈরি করে।

চট্টগ্রাম, মোংলা এবং গভীর সমুদ্রবন্দরগুলো যদি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় বন্দরের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশ ASEAN অঞ্চলের সঙ্গে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারে।

এখানে মিয়ানমারের বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থলপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে বাংলাদেশের স্বাভাবিক প্রবেশপথ মিয়ানমার। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সেই corridor-কে অনিশ্চিত করে রেখেছে। ফলে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য শুধু উপকূল নয়; এটি একটি বিকল্প ভূ-অর্থনৈতিক মহাসড়ক।

SEACO যদি maritime connectivity-কে বাস্তবে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে বাংলাদেশ এই অবস্থানের বড় সুবিধাভোগীদের একটি হতে পারে।

বঙ্গোপসাগর থেকে মালাক্কা—মানচিত্রটি আরেকবার দেখুন…

SEACO-কে বুঝতে আবারও মানচিত্রে ফিরতে হয়। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের উত্তর প্রান্তে। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পাশে মালাক্কা প্রণালি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবাণিজ্যপথ। মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ shipping lanes-এর কাছে। ব্রুনেই দক্ষিণ চীন সাগরের অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ।

এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যদি বন্দর, shipping, logistics ও trade facilitation-এর একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, তাহলে একটি বিস্তৃত সামুদ্রিক অর্থনৈতিক বলয় তৈরি হতে পারে। এটি কোনো নতুন ‘মুসলিম সমুদ্রপথ’ তৈরি করবে—এমন সরল দাবি করা ঠিক হবে না। সমুদ্রপথগুলো আগে থেকেই রয়েছে।

প্রশ্ন হলো, এই পথগুলোর ওপর মুসলিম অর্থনীতিগুলোর নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য কতটা বাড়বে এবং সেই বাণিজ্যের value chain-এর কতটা তারা নিজেরা ধরে রাখতে পারবে। এখানেই geoeconomics-এর আসল প্রশ্ন।

হালাল অর্থনীতি: যে বাজারকে আমরা এখনো ছোট করে দেখি…

হালাল অর্থনীতি বললে অনেকের মাথায় প্রথমে খাবারের কথা আসে। কিন্তু আধুনিক halal economy অনেক বড়। খাদ্য ছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ, পর্যটন, logistics, finance, fashion, food processing, standardisation এবং certification।

মালয়েশিয়া এই ecosystem তৈরিতে অনেক এগিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে বিপুল মুসলিম consumer base। বাংলাদেশের রয়েছে pharmaceuticals, garments, agro-processing এবং manufacturing capacity। এই শক্তিগুলো যদি একই value chain-এ আসে, তাহলে সম্ভাবনাটি অনেক বড়।

ধরা যাক, একটি বাংলাদেশি pharmaceutical company ওষুধ উৎপাদন করল। মালয়েশিয়ার স্বীকৃত certification framework ব্যবহার করল। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশ করল। একটি আঞ্চলিক logistics network সেই পণ্য বহন করল। ইসলামিক ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান তার সম্প্রসারণে অর্থায়ন করল।

তখন halal economy শুধু ‘হালাল লোগোযুক্ত পণ্য’ থাকবে না। এটি হয়ে উঠবে উৎপাদন, অর্থায়ন, certification, logistics ও market—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। মুসলিম দেশগুলোর জন্য এর কৌশলগত মূল্য এখানেই।

খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নটি আরও বড়…

অর্থনৈতিক সহযোগিতার আলোচনা সাধারণত trade volume দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু ভবিষ্যতে food security আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কোভিড মহামারি দেখিয়েছে, supply chain ভেঙে গেলে কী হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে, খাদ্যশস্যের আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যাহত হলে কত দ্রুত বহু দেশে মূল্যস্ফীতি ছড়িয়ে পড়ে। লোহিত সাগরের সংকট দেখিয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ shipping route বিঘ্নিত হলেও বিশ্ববাণিজ্যের ব্যয় কীভাবে বাড়তে পারে।

এই বাস্তবতায় মুসলিম দেশগুলোর প্রশ্ন হওয়া উচিত—সংকটের সময় তারা কতটা একে অন্যের ওপর নির্ভর করতে পারবে?

SEACO দেশগুলোর মধ্যে কৃষি, fisheries, fertilizer, agro-processing, grain storage, cold chain এবং emergency food supply নিয়ে আগাম সহযোগিতা তৈরি হলে তা শুধু বাণিজ্য বাড়াবে না; strategic resilience-ও তৈরি করবে। অর্থাৎ বাজার স্বাভাবিক থাকলে ব্যবসা, আর সংকট এলে নিরাপত্তা।

প্রযুক্তি ছাড়া এই জোটের ভবিষ্যৎ নেই…

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা মানেই শুধু চাল, তেল, পোশাক, মাছ কিংবা পর্যটন—এই পুরোনো ধারণা থেকেও বের হতে হবে। আগামী দিনের অর্থনীতি নির্ধারিত হবে AI, semiconductor, automation, cybersecurity, fintech, biotechnology, renewable energy এবং advanced manufacturing-এর মতো খাত দিয়ে।

মালয়েশিয়া semiconductor supply chain-এ গুরুত্বপূর্ণ। ইন্দোনেশিয়া দ্রুত digital economy সম্প্রসারণ করছে। বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল তরুণ workforce এবং growing manufacturing base।

SEACO যদি শুধু traditional trade নিয়ে পড়ে থাকে, তাহলে এর সম্ভাবনা সীমিত হয়ে যাবে। কিন্তু technology transfer, university collaboration, joint research, startup capital এবং industrial training যুক্ত করা গেলে সম্পর্কের চরিত্র বদলে যেতে পারে। কারণ অর্থনীতির সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য সবসময় কাঁচামাল নয়; কখনো সেটি জ্ঞান।

তাহলে তিন দশকেও SEACO এগোয়নি কেন?

এখানে বাস্তবতাটি স্বীকার করতে হবে। ভালো ধারণা হওয়া আর কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। SEACO তিন দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনায় থাকলেও এখনো একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারেনি

এর কারণও রয়েছে। দেশগুলো ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন। তাদের বিদ্যমান আঞ্চলিক অগ্রাধিকার ভিন্ন। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেই ASEAN-এর অংশ। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আবদ্ধ। মালদ্বীপের অর্থনীতির চরিত্রও আলাদা।

তার সঙ্গে রয়েছে customs, tariff, rules of origin, product standard, shipping cost, bureaucracy এবং investment protection-এর মতো কঠিন বাস্তবতা।

SEACO-র সামনে এখন দুটি ভবিষ্যৎ…

প্রথম ভবিষ্যৎটি পরিচিত। সম্মেলন হবে, বক্তৃতা হবে, যৌথ বিবৃতি হবে, concept paper থাকবে। তারপর বিষয়টি আবার কয়েক বছর হারিয়ে যাবে।

দ্বিতীয় ভবিষ্যৎটি অনেক কঠিন, কিন্তু অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া নির্দিষ্ট কয়েকটি sector নিয়ে বাস্তব কাজ শুরু করবে। Direct shipping চালু হবে। Customs সহজ হবে। Halal standards পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত হবে। Joint venture হবে। Investment fund তৈরি হবে। Digital payment connectivity বাড়বে। এরপর ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই ও মালদ্বীপ ধীরে ধীরে আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে।

বাংলাদেশের জন্য তাই SEACO-র প্রশ্নটি শুধু—‘আমাদের রপ্তানি কত বাড়বে?’—এতটুকু নয়। বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি তার ভূগোলকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পারবে?

আর আরও বড় প্রশ্ন—মুসলিম বিশ্ব কি নিজের বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলোকে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত করে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, যেখানে এক দেশের পুঁজি অন্য দেশের শিল্প তৈরি করবে, এক দেশের প্রযুক্তি অন্য দেশের দক্ষতা বাড়াবে, এক দেশের খাদ্য আরেক দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং এক দেশের বাজার অন্য দেশের উদ্যোক্তার জন্য সুযোগ তৈরি করবে?

Related

উপমহাদেশে মুসলিম নিধনের হাতিয়ার জয় শ্রীরাম স্লোগান

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের টগবগে তরুণ মুসলিম তাবরেজ আনসারী। একদিন সকালে নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী তার পথরোধ

রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছরঃ অনিশ্চিত প্রত্যাবাসন, আরাকান আর্মির সন্ত্রাসে হুমকিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম। সমাধান কোন পথে?

আগামী ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা গণহত্যার নয় বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের জান্তা সরকার, উগ্র বৌদ্ধ সন্ত্রাসী ও মগ

Digital Geopolitics: Cyber Power, Surveillance, and the Muslim World

Digital technologies have transformed every dimension of international relations and Muslim world engages this transformed landscape with varying degrees of